গতবছর থেকে ই প্ল্যান করছিলাম এই বাগানে যাবো কিন্তু ডাবল টাকা বিল দিতে হবে বলে শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয় নাই। তবে এইবার আর চিন্তা করি নাই। স্টুডেন্ট ট্রিপ থেকে ইভেন্ট দেখে ই বীর বিক্রমে রেজিস্ট্রেসান করে ফেলেছি। তারপর ও ভয় ছিল যে শেষ পর্যন্ত যাওয়া হবে কি হবে নাহ। তবে সকল ভয় শেষ করে ২২.০৪.১৭ তে ট্রিপ দিয়া ই দিলাম।
প্রথমে ই বলে রাখি, এই ট্রিপ টা একটা স্টুডেন্ট ট্রিপ ছিল, মানে আয়োজক ছিল অন্য কেউ। এটার আগে কোনদিন ই আমি ওদের সাথে যাই নাই, তাই ওদের সাথে অভিজ্ঞতা ও তেমন সুখকর হয় নাই। প্রথমে ই ই-মেইল পেয়েছি একদম শেষ মুহূর্তে, যেটা ওদের ২-৩ দিন আগে ই দেয়ার কথা প্ল্যান করার জন্য। তারপর বাস ছাড়ার টাইম ছিল সকাল ৭ টায়, সেই বাস ছেড়েছে ৮.১৫ মিনিটে, সাথে গাড়িতে ব্রেকফাস্ট দেয়ার কথা থাকলে ও সেটা দেয়া হয় নাই।
যাই হোক, সব ঝামেলা শেষ করে ৮.১৫ তে Dortmund থেকে বাস ছাড়ে আর Keukenhof পৌছাই ১২.২৫ এর দিকে। যেহেতু ওইদিন ফ্লাওয়ার প্যারেড হবে, তাই গেটের সামনে থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত জ্যাম ছিল, তাই একটু লেট হয়েছিলো। বাই দ্যা রাস্তা, টয়লেট বাস থেকে ই সেরে ফেলা ভালো, কারন বাগানের গেটের পাশের টয়লেটে ছিল বিশাল লম্বা লাইন।
প্রথমে ই আমরা আমাদের ইভেন্ট এর দায়িত্ব প্রাপ্ত মেয়ে আয়মা থেকে আমাদের টিকেট সংগ্রহ করি ( পার পারসন ১৬ ইউরো টিকেট মূল্য)। তারপর ও আমাদের বলে দেয় আমরা ব্যাক করবো রাত ৮.৩০। সো ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেদের মত ঘুরতে পারি।
প্রথম কাজ ছিল অন্য ইভেন্টে আসা বন্ধু মাজেদ এন্ড মিশকাত কে খুঁজে বের করা। কপাল ভালো যে এতো ভিড়ের মাঝে ও ওদের খুঁজে পেয়েছিলাম। ওরা এসেছে ১১ টার দিকে, আমাদের জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করেছিলো। আমরা ভিতরে গিয়ে ই পরলাম টিউলিপ ফুলের মহাসমুদ্রে, যেদিকে তাকাই খালি টিউলিপ আর টিউলিপ। রং বেরং এর ফুল। শুরু হয়ে গেলো ফটোসেশন আর বিশাল বাগান ঘুরে দেখা।
ঘুরতে ঘুরতে দুপুর ২.৩০ দিকে খুব ক্ষুধা লাগায় বাগানের এক সাইডে বসে আমরা শুরু করে দেই বিশাল খাবারযজ্ঞ, আসেপাশের সবাই আমাদের দিকে তাকাই ছিল আর আমরা ছিলাম ড্যামকেয়ার। খাবারের মেন্যু তে ছিল সিঙ্গারা, রোল, সেন্ডুইজ, কাবাব এন্ড ড্রিঙ্কস।
তারপর শুরু হয় আবার বাগান ঘুরে দেখা। একটা মজার ব্যপার হচ্ছে আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া এন্ড পাকিস্তানের পাবলিক দিয়ে বাগান ভরপুর। চারপাশ থেকে বাংলা, হিন্দি কিচির মিচির শুনা যাচ্ছিল অনেক।
৩.৩০ এর দিকে আমরা হাঁটা দিলাম ফ্লাওয়ার প্যারেড দেখতে। ওমা, গিয়ে দেখি তিল ধারনের জায়গা ও নাই, এতো মানুষে গিজ গিজ অবস্থা। আমরা মনে হয় প্রায় ১ কিলো হাটার পর একটা সুবিধা জনক জায়গা পেয়াছিলাম। ৫ টা পর্যন্ত দেখলাম ফ্লাওয়ার প্যারেড। ফুল দিয়ে কত রং বেরং এর প্রতিকৃতি ওরা তৈরি করেছে, বিশেষ করে ম্যাক্সিমাম ই পশু পাখির আদল।
প্যারেড ঠিক মত শেষ না করে ই আবার বাগানে ব্যাক করলাম, কারন অনেক কিছু ঘুরা বাকি। এইবার হাঁটা দিলাম উইন্ড মিলের উদ্দেশ্যে। পাশে ই দেখি নৌকা ভ্রমন করা যায়। ৪৫ মিনিট মাত্র ৮ ইউরো :O নৌকা দিয়ে ঘুরলাম মনের সুখে ৪৫ মিনিট। দিগন্ত বিসৃত টিউলিপ ক্ষেত দেখলাম এইবার। ক্ষেতের মাঝে দিয়ে খাল কাঁটা হয়েছে পানি দেয়ার জন্য, ওটা দিয়ে ই নৌকা গেলো। একটু ঠাণ্ডা ছিল, তবে জার্নি টা মজার ছিল।
নৌকা থেকে নেমে শেষ বিকেলের আলোয় আরও কিছু পিক তুললাম, এইবার ছবি গুলো সেই আসলো। আমার ছবি তোলার বিষয় ছিল খালি ভাই এন্ড ভাই :P আর একটা মজার ব্যপার হচ্ছে আমরা ওখানে আমাদের পুরাতন এক ফ্রেন্ড কে অনেক মিস করেছি বিভিন্ন এঙ্গেলে ছবি তোলার সময় ;)
৭.৩০ এর দিকে বাগান বন্ধ হয়ে যায়, তাই বাধ্য হয়ে ই বের হয়ে এলাম। বাহিরে বের হয়ে হাল্কা নাস্তা করে বন্ধুদের বিদায় দিলাম, তারপর আমরা মেকডোনাল্ডে খেয়ে ফিরতি গাড়িতে চেপে উঠি বাসায় ফেরার জন্য আর সাথে নিয়ে আসি একঝাক ভালোবাসা এন্ড মধুর স্মৃতি।
ফুটনোটঃ বাসায় ফিরে ম্যাপ খুলে দেখি আমরা বাগানের মাত্র ৪০% কাভার করতে পেরেছি :/ তাহলে চিন্তা করেন কত বিশাল বাগান। তাই যারা পরের বার যাবেন, তারা একটু সকাল সকাল গেলে, আই মিন সকাল ৭/৮ টার দিকে বাগানে প্রবেশ করতে পারলে আশা করি বাগান ফুল কাভার করতে পারবেন। তাই জলদি করুন।
হ্যাপি টিউলিপ ওয়াচিং :)
আরও ছবি পাবেন এই লিংকেঃ https://www.facebook.com/media/set/?set=a.10203058772106308.1073741865.1715753697&type=1&l=0203768ac3
স্টুডেন্ট ট্রিপ মনে হয় সবজায়গায়ই এরকম। গা ছাড়া ভাব!
উত্তরমুছুনএকটু দামে সস্তা ছিল বলে নিয়েছিলাম, তবে কথায় বলে নাহ সস্তার তিন অবস্থা :/
মুছুন