প্যারিসের ডায়েরীঃ পার্ট- ১ঃ বিড়ম্বনা

অনেকদিন পর ব্লগে আসলাম। এটাকে ঠিক আসা বলে নাহ, আশিক ( ছোট ভাই) মনে করাই দিলো যে আমার একটা ব্লগ আছে। চিন্তা করলাম যেহেতু ব্লগে আসলাম, ভাবলাম অনেকদিন আগে প্যারিস ট্রিপ নিয়ে কিছু লিখি, যদিও ম্যাক্সিমাম কাহিনী ই ভুলে গেছে।

জার্মানি তে আসার পর থেকে ই তক্কে তক্কে ছিলাম প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের উপর থেকে দুনিয়া দেখার, কিন্তু সময়, সুযোগ এন্ড টাকার অভাবে যেতে পারছিলাম নাহ। কিন্তু অভাগাদের দিন সব সময় খারাপ যায় নাহ। অনলাইনে ঘুরতে ঘুরতে হটাত করে অফার পেয়ে গেলাম অনেক সস্তা দামে। মাত্র ৯ ইউরো তে প্যারিস, তারমানে যাওয়া আসা মাত্র ১৮ ইউরো!

এমন সুযোগ বার বার আসে নাহ, তাই প্ল্যান করে ফেললাম যাওয়ার। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় প্রথম যেই প্যারা টা আসে টা হচ্ছে সস্তা দামে রাত কাটানোর জায়গা খুঁজে বের করা। কিছুদিন বিভিন্ন অফারে নজর রেখে হোটেল ও মেনেজ করে ফেললাম। প্রতি রাত ১৫ ইউরো। শেয়ার টাইপ হোস্টেল, এক রুমে ৪ জন, অনেকটা ট্রেনের কেবিনের মত, উপর নিচে ঘুমাতে হয়। যেহেতু ঘুরতে যাচ্ছি, তাই চিন্তা করে দেখলাম খালি একটু ঘুমাতে পারলে ই হল, এতো কাহিনী করার কিছু নাহ।
বাসের টিকেট মেনেজ হই গেছে, সাথে হোটেল। এইবার যেটা দরকার, ওটা হচ্ছে কি কি ঘুরবো, কোথায় কোথায় যাবো, কেমন করে যাবো এইসব।
ফেবু তে পোস্ট দিলাম কারো পরিচিত আছে নাকি প্যারিসে। বন্ধু সাব্বির এক কাল্লুর( নাইজেরিয়ান)  সাথে পরিচয় করাই দিলো, হেতে প্যারিসে মাস্টার্স করতেছে। অনুরোধ করলাম আমার জন্য ২ দিন সময় বের করার জন্য। কাল্লু ও রাজি হয়ে গেলো।
নির্ধারিত দিনে ( মানে রাইতে) ফ্লিক্স বাসে চড়ে বসলাম। সারা রাত বাস চলল জার্মানি পার হয়ে বেলজিয়াম হয় ফ্রান্সের প্যারিস। মাঝে মাঝে যাত্রা বিরতি। কারো ইচ্ছা হলে নেমে কিছু হাল্কা পাতলা স্নেক্স খেয়ে নিতে পারে অথবা বিড়ি।
ভোর ৭ টার দিকে প্যারিসে নামিয়ে দিলো আমার বাস। কথা ছিল কাল্লু আমাকে রিসিভ করতে বাস স্টপেজে আসবে কিন্তু নেমে আক্কেল গুডুম। কাল্লুর টিকি ও দেখতে পেলাম নাহ। আর যেহেতু কাল্লু আমাকে ঘুরাই দেখাবে, তাই আমি রাস্তা ঘাট নিয়ে কোন প্রকার ঘাটাঘাটি ই করি নাই, এইবার ত পরলাম মহা বিপদে। হোটেল পর্যন্ত যাবো সেই রাস্তা ও চিনি নাহ!
আমার সাথে পোস্ট পেইড সিম ছিল, যেটা দিয়ে জার্মানির বাহিরে ও কল করা যায়, তবে বিপুল পরিমাণ বিল দিতে হবে বলে দিতে পারছিলাম নাহ। অগত্যা ভাবলাম কোন মোবাইল দোকান খুঁজে বের করে কল দেই। ইউরোপে এই এক সমস্যা, আমাদের দেশের মত রাস্তার অলিতে গলিতে মোবাইল এর দোকান পাওয়া যায় নাহ। এক ঘণ্টা রাস্তার এক মাথা ধরে হাঁটলাম, তবে কোন দোকান পেলাম নাহ। কাও যে জিজ্ঞাসা করবো সেই উপায় ও নাই, ম্যাক্সিমাম ই অশিক্ষিত ( মানে ইংলিশ পারে নাহ)। এর মাঝে ই এক আজিব জিনিষ দেখতে পেলাম। জার্মানি তে রাস্তার মাঝে মাঝে জেব্রা ক্রসিং থাকে পথচারী চলাচলের জন্য, তারমানে কেউ জেব্রা ক্রসিং এ নামলে গাড়ি থেকে থাকবে রাস্তা পার না হওয়া পর্যন্ত, কিন্তু প্যারিসে দেখি উল্টা কাহিনী, কোন নিয়ম নীতির বালাই নেই, গাড়ি চলতেছে আপন নিয়মে, গাড়ি থামার জায়গায়, মানুষ দাড়াই আছে জেব্রা ক্রসিং এর সামনে।
অনেক খুঁজাখুঁজির পর একটা মোবাইল দোকান পেলাম, তবে হেই হালারা ও কল করার কোন অপ্সান রাখে নাই, সিম কিনতে হবে। আমি এসেছি ২ দিনের জন্য, আমি সিম কিনে কি করবো। শেষ পর্যন্ত একজন কে রিকু করে কল দিতে বললাম নিজের অবস্থান জানাই। সে কল দিলো, কিন্তু অভাগা যে! কাল্লুর মোবাইল বন্ধ !
এখন উপায়, একবার ভাবতেছি এখন ই ব্যাক করে চলে আসি, শালার কাল্লু। কিন্তু পরে ভাবলাম ফিরতি টিকেট আরও ২ দিন পর। ইউরো এর মায়রে বাপ করে নিজের মোবাইল থেকে অনবরত কল দিতে থাকলাম নিজের নাম্বার থেকে ই, কিন্তু কোন উত্তর নাই।
৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, কি করি কোন কুল কিনারা পাচ্ছি নাহ।
বাস স্টপেজের উল্টা দিকে একটা বিখ্যাত হোটেল ছিল, খুব খিদা লেগেছিল, তাই গিয়েছিলাম কিছু খেতে। খাওয়ার পর মুতার জায়গা খুঁজতে খুঁজতে নিচে নেমে দেখি, ওদের পার্সোনাল ওয়াই-ফাই আছে। আহা! আশার আলো দেখতে পেলাম। কারন কাল্লুর সাথে আমার ফেবু তে কানেকশান আছে প্লাস ওয়াটসাপে ও আছে। সাথে সাথে ই নেট কানেক্ট করে কাল্লু তে নক দিলাম। ২ বারের মাথায় কাল্লু কল রিসিভ করে বলে সে একটু আগে বাস স্টপেজে এসেছে। ওর ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছে বলে লেট হয়েছে।
শালার কাল্লু, আমার লাইফ তেজপাতা কইরা হালায় ঘুমাইছে!
যাক, অবশেষে কাল্লুর সাথে মিট হল।
বাকিটা পরের পর্বে..................... টু বি কন্টিনিউ!

মন্তব্যসমূহ