মুভি রিভিউঃ " অজ্ঞাতনামা"

 
২০০২ বা ০৩ সালের কথা!
ঢাকার একটা অফিসে গেলাম একজনের সাথে। উনি একজন পার্ট টাইম দালাল, উনার সাথে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন একটা ম্যান পাওয়ার এজেন্সি তে। তখন বিদেশে মুরগী পাচার করার ব্যবসা খুব রমরমা। আমাকে পাশের রুমে বসিয়ে রেখে উনি গেলেন ভিতর থেকে ভিসা আনতে ( ভিসা লাগানো পাসপোর্ট)। উনি ওটা কালেক্ট করলেন ২/৩ লাখ টাকা দিয়ে।
তারপর আমরা ২ জন উনার গ্রামের বাড়ি গেলাম। ওখানে যাওয়ার পর দেখি উনার সেই ডিমান্ড, সবাই উনার থেকে ভিসার আপডেট নিচ্ছে, কয়টা ভিসা এইবার লাগাতে পারবে ওটা জানতে চাচ্চিল।
গ্রামের অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত ছেলে গুলো উনার পিছে পিছে ঘুরা শুরু করেছে।
অবশেষে উনি ওই ভিসা বিক্রি করলেন ৭ লাখ টাকায় :O
ঢাকা থেকে ওই ভিসা আসতে আসতে ৪ লাখের মত বেড়ে গেলো, তাও সেই ভিসা যদি অরিজিনাল কিছু হতো।
তখন এখন কার মত ডিজিটাল পাসপোর্ট ছিল নাহ, পিকের উপর সাদা টেপ দেয়া থাকতো, ওটা মে বি হিট বা অন্য কিছু দিয়ে তুলে অন্য কারো পিক লাগিয়ে দেয়া যেতো। এই টাইপ ভিসা কে গলা কাটা ভিসা বলা হতো। তাতে পিক ত যে যাবে তার ই থাকতো, তবে নাম ঠিকানা এন্ড সব কিছু অন্য কারো থাকতো।
এতক্ষণ যা বললাম এই থিমে ই নির্মিত হয়েছে "অজ্ঞাতনামা" মুভি টি।
এমন ই এক দালালের হাত ধরে একজন বিদেশ গিয়েছিলো। কিন্তু কোন একটা এক্সিডেন্টে সে মারা যায়। তাই নিয়ম অনুযায়ী ওর লাশ ফেরত নেয়ার জন্য ওর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয় পাসপোর্ট এর দেয়া ঠিকানায়। কিন্তু প্যাঁচ লাগে ওই যে নাম একজনের, মাগার মানুষ ত অন্য কেউ।
তারপর সেই লাশের কি পরিনতি হয়েছিলো, জানতে হলে দেখতে হবে মুভি টি। পরিচালক তার নিপুন হাতে সেই লাশ নিয়ে, পরিচয় নিয়ে সৃষ্ট সংকট ফুটিয়ে তুলেছেন এই মুভি তে।
মুভি তে অভিনয়ে ছিল মোশাররফ করিম, সহিদুল্লাহ সেলিম, ফজলুল হক বাবু প্রধান চরিত্রে এন্ড আরও কিছু চরিত্রে আবুল হায়াত, নিপুন, সাহেদ।
মুভি টা দেখতে দেখতে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম আমার ছোট বেলার দেখা সেই পার্টে এন্ড পরের পার্টে আমি অনুভব করছিলাম বিদেশ গামী আমাদের হাজারো কর্মী দের কথা, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের জন্য রেমিটেন্স সেন্ড করে, যারা নিজেদের সর্বস্ব বিক্রি করে দেয় দালাল থেকে ফেক ভিসা কিনতে গিয়ে, তারপর ও ওদের পরিনতি কি হয়!
মুভি দেখতে গিয়ে আপনি মনের অজান্তে ই দুর্বল হয়ে যাবেন এন্ড নিজেকে ওখানে কল্পনা করবেন ( অবশ্য আপনি বিদেশে না থাকলে এটা কল্পনা করা একটু কঠিন)। এখানে ই পরিচালক তউকির আহমেদের সফলতা।
জানি না এমন একটা মুভির জন্য কেন তেমন করে মার্কেটিং করা হয় নাই, আমার মাথায় ও ধরে নাহ। অন্তত মাস খানেক ত এই মুভি ই সব হল দখল করে রাখার কথা ছিল।
যাই হোক আশা করি সবার ই দেখা শেষ, না দেখে থাকলে এখন ই বসে যান :)
হ্যাপি ওয়াচিং :) 

মন্তব্যসমূহ