টাকা ধার দেনার সম্পর্কটা আমার সাথে কেন জানি সাপে-নেউলে। এই জিনিষ নিয়ে সুখ স্মৃতি খুব ই কম আছে। বাটপাড় মেহেদীর কাছে ধরা খাওয়ার পর ও কেন জানি আমার শিক্ষা হয় নাহ। তাইতো বার বার ন্যাড়ার মত বেলতলায় যাই।
এই জিনিষ নিয়ে লিখতে রুচি তে বাধে, তারপর ও লিখতে হচ্ছে গত সপ্তাহখানেকের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর, যাতে বাকিরা একটু সাবধান হয়ে যায়।
ঘটনার সুত্র পাত পরিচিত ছোট এক ভাইয়ের কারণে। সে মালয়সিয়া তে থাকে। হটাত একদিন নক দিয়ে বলে ভাই কিছু টাকা ধার দাও, আর্জেন্ট। টাকার পরিমাণ ও নেহায়েত মন্দ নাহ। এতো টাকা মাসের শেষে আমার কাছে কখনো ই এক্সট্রা থাকে নাহ।
তারপরও মুখ রক্ষার্থে বললাম সামনের মাসে বেতন পেলে হাফ দিবো, বাকিটা তুই মেনেজ করে নে। যথারীতি পরের মাসে সে নক দিয়ে একটা ব্যাংক আকাউন্ট ধরাই দেয়।
জার্মানি থেকে টাকা সেন্ড করার ক্ষেত্রে কিছু ব্যাপারে জার্মান সরকার নজরদারি করে, তাই আমি নরমালি খুব ইমারজেন্সি না হলে টাকা সরাসরি সেন্ড করি নাহ, আর করলে ও ফ্যামিলি এর আকাউন্টে পাঠাই, যাতে আমাকে সরকার চার্জ করলে আমি উত্তর দিতে পারি।
তারপরও ছোট ভাইয়ের জন্য রিস্ক নিয়ে অন্য আকাউন্টে টাকা সেন্ড করি।
আর এখান থেকে টাকা সেন্ড করলে সব সময় ই ৩০০-৭০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়, যথারীতি ওই সার্ভিস চার্জ সদ্গায়ে জারিয়া হয়ে যায়, ওটা চাওয়া যায় নাহ। তারপর ও সেন্ড করলাম।
টাকা নেয়ার সময় বলল লাগলে ই যাতে বলি, নাহলে সে পরের মাসে নিজ থেকে সেন্ড করে দিবে।
ভালো কথা, টাইম মত দিলে ই ভালো।
কিন্তু ২ মাস হতে চলল, মামার কোন খুঁজ খবর নাই, মনে হয় টাকা নেয়ার কথা ভুলে ই গেছে। আমার হাত থেকে টাকা নেয়ার পর সবাই কেন জানি ওই টাকা বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করে রেখে দেয়।
এই মাসে আব্বুর মৃত্যুবার্ষিকী। গ্রামের বাড়ি তে মিলাদ পড়াবে, তাই কিছু এক্সট্রা টাকা লাগবে। আম্মু কে বললাম টাকা টা আমি দিবো।
সমস্যা হচ্ছে এই মাসে আমার ভিসা এক্সটেন্ড করতে হবে, তাই আমি কোন রকম বিদেশী ট্রান্সফারে যেতে চাচ্ছি নাহ, নাহলে হাজার রকম প্রশ্ন আর প্যারা। তাই ভাবলাম ছোট ভাই কে বলি ভুলে যাওয়া আমার টাকা টা ফেরত দিতে।
ত আগের মাসের ২০-২২ তারিখের দিকে ই বলে রাখলাম যে এই মাসের প্রথম সপ্তাহে আমার টাকা টা লাগবে, যাতে সে মেনেজ করে রাখে। সে বলল ওকে।
সেই হিসেব মত ৭ তারিখের দিকে/ ৬ তারিখ নক দিলাম, দিয়ে আম্মুর বিকাশ নাম্বার টা দিয়ে দিলাম। বললাম যাতে টাকা টা সেন্ড করে দেয়। সে বলল কোন সমস্যা নাই, টাকা সেন্ড করে আমাকে জানাবে।
তারপর থেকে শুরু হল গিয়ে খেলা। সে আজ দিবে, কাল দিবে বলে ঘুরাতে লাগলো।
যখন ই নক করি বা কল করি, তখন ই বলে কাল সকাল ১১ টায় আম্মু কে বিকাশ চেক করতে, সে টাকা সেন্ড করে দিবে। এই রকম করে ২ দিন ঘুরাল। বাসায় বার বার কল দিয়ে বলি টাকা পেয়েছে কিনা। কিন্তু মামা সেন্ড না করলে আম্মু পাবে কি করে! আম্মু শেষ পর্যন্ত ক্ষেপে গেলো, বলে যে টাকা সেন্ড না করে ই কেন বার বার প্যারা দিচ্ছি।
সাথে সাথে মামা কে কল দিলাম, কাজে আছে বলে কল ধরল নাহ। বলল যে বাসায় বলে দিছে, ঘণ্টা খানেকের মাঝে ই টাকা সেন্ড করে দিবে। ভালো কথা।
কিন্তু সেই ঘণ্টা খানেক আর পার হয় নাহ।
এতদিন নিজে গাইল খাইল আমার কাছে মনে মনে, এইবার ফ্যামিলি শুদ্ধ গালি খাচ্ছে মনে মনে। টাকার পরিমাণ এতো বিশাল নাহ যে ওর পরিবার দিতে পারবে নাহ। কুমিল্লা শহরে নিজের বাড়ি আছে। যাই হোক ওই দিন ও পার হয়ে গেলো।
তারপর আমার থেকে ২ দিন টাইম চেয়ে নিলো। কি নাকি ঝামেলা হয়েছে।
এতদিন বলি নাই টাকা কেন দরকার, এইবার খুলে ই বললাম টাকা কেন দরকার এন্ড কেন আমি নিজে টাকা সেন্ড করতে পারছি নাহ। সে সরি বলে ফেনা তুলে ফেলল।
তারপর বলে যে কারে নাকি টাকা দিছে, ও টাকা টা সেন্ড করে দিবে আগামী কাল সকালে, সেই সকাল এখন পর্যন্ত আসে নাই।
আমি আমার নিজের টাকা খুঁজতে গিয়ে লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে, কিন্তু উনার কোন বিকার নাই। লজ্জা শরমের জাত দুনিয়ায় অচল হই গেছে মনে হয়।
আজ ১৭ তারিখ। কিন্তু টাকার কোন নাম গন্ধ নাই।
বললাম যে ভাই টাকা পয়সার সমস্যা থাকলে বলে দে, আমি অন্য কোন দিকে মেনেজ করার ট্রাই করি, তাও ঝুলাই রাখিস নাহ। বলে যে দিয়ে দিবে।
আম্মুর গত কাল গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। তার এই বাবল গাম খেলার কারণে সেটা ও পিছাই গেছে।
এখন ত মেসেজসিন করে, তবে রিপ্লাই দেয় নাহ।
মনে হচ্ছে এই টাকা সদ্গায়ে জারিয়া হয়ে গেছে।
টাকার পরিমাণ খুব বিশাল কিছু নাহ। আল্লাহ দিলে ওটা পূরণ হই যাবে। কিন্তু এই যে প্যারা টা দিলো ওটা জীবনে ও ভুলার মত নাহ।
এই লাইন গুলো ওর নজরে পরবে, আমাকে ছোট লোক ও ভাব্বে, বলবে যে ধার দিয়ে কথা সুনাচ্চি, কিছু যায় আসে নাহ। এমন রিলেসান থাকার থেকে না থাকা ব্যাটার। খালি খালি কিছু টাকার জন্য সম্পর্ক টা নষ্ট হল।
আমি কারো থেকে ধার নিলে রাতের ঘুম হারাম হয়ে থাকে কবে ব্যাক করবো, দেখা যায় যে দিছে সে ভুলে গেছে, মাগার আমি নিজে থেকে ঠিক টাইমে মনে করে টাকা ব্যাক করে দেই। আর আমার ক্ষেত্রে হয় উল্টা। যে ধার নেয় সে শরম পায় নাহ, উল্টা আমি টাকা ব্যাক চাইতে গিয়ে শরম পেয়ে যাই, মনে হয় বিরাট অন্যায় করে ফেলেছি।
#ছোট ভাই, স্বভাব বদলা, নাহলে নিজের সাথে সাথে ফ্যামিলি কে ও মানুষের কাছে গালি খাওয়াবি। আর কথা দিলে কথা রাখার চেষ্টা করবি নাহলে কোন একদিন দেখবি তোর কথা শুনার কেউ নাই। সমস্যা থাকলে ভিন্ন কথা, ওটা খুলে বলা উচিৎ। আর কারো ইমারজেন্সি সময়ে কোন কিছু ঝুলাই রাখিস নাহ, কোনদিন নাহ তুই নিজে ই ইমারজেন্সি তে চলে যাস।
#পর সমাচার এই যে, আমার দারুণ শিক্ষা হয়েছে, এই শিক্ষা থেকে ভবিষ্যতে কেয়ারফুল থাকতে পারলে ই তোর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।
#ন্যাড়ার মত বার বার বেল তলায় যাই কেন জানিস? কারন আমার কঠিন বিপদে কিছু মানুষ আমাকে হেল্প করেছিলো, তাই ওই ঋণ ভুলতে পারি নাহ :)
যাই হোক উল্টা পাল্টা কথার জন্য সরি, মাফ করে দিস :)
ভালো থাকিস।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন